সোনাডাঙ্গায় একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার, সৎ বাবাকে সন্দেহ

খুলনা জেলা প্রতিনিধি: ফাহিম ইসলাম
খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় নগরীর তমিজ উদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন বেবী বেগম (৫৫), তার নাতি শামীম (১৩) ও মুস্তাকিম (৪)। নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগম মেরী তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম আগের ঘরের সন্তানদের ভালোভাবে মেনে নিতে পারতেন না। শুক্রবার রাতে তিনি বাসায় ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শনিবার সকালে বাইরে থেকে ঘরে তালা লাগিয়ে তিনি চলে যান। এরপর মা, সন্তান ও মায়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন ফাতেমা। বিকেলে পাশের কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহগুলো সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, দুই শিশু ও তাদের নানির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নিহত শিশুদের মা ফাতেমা বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলামকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রফিকুল নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই সন্তান শামীম ও মুস্তাকিম মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল। পরবর্তীতে আন্তঃজেলা ট্রাকচালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তারা একসঙ্গে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





