যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত পাকিস্তান: সেনা মুখপাত্র

যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য পাকিস্তান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)–এর মহাপরিচালক Ahmed Sharif Chaudhry। বৃহস্পতিবার Islamabad–এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ও দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
‘মারকা-ই-হক’ নামে অভিহিত ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শিফাত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজীও উপস্থিত ছিলেন।
“যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে জবাব দেওয়া হবে”
Ahmed Sharif Chaudhry বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহুমাত্রিক সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে বড় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করেছে।
তার ভাষায়, “দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধের সুযোগ আছে বলে যারা মনে করে, তারা বাস্তবতা বোঝে না। তবে কেউ যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে পাকিস্তানের অঙ্গীকার ও প্রস্তুতি নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।”
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক শক্তির যে অংশ প্রকাশ্যে দেখা গেছে, তা মোট সক্ষমতার মাত্র ১০ শতাংশ।
ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে ভারতকে লক্ষ্য করে একাধিক অভিযোগ তোলেন পাকিস্তানের এই সেনা কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, ভারত পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক মহলে সেই বর্ণনা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত অভ্যন্তরীণ সংকট আড়াল করতে সীমান্ত উত্তেজনা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যু ব্যবহার করছে। পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতেও ভারতের সমালোচনা করেন তিনি।
আধুনিক যুদ্ধ এখন বহুমাত্রিক
Ahmed Sharif Chaudhry বলেন, আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থল, আকাশ, সমুদ্র, সাইবার জগৎ এবং তথ্যযুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। পাকিস্তান এসব ক্ষেত্রেই প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের ভিডিওও প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি, যুদ্ধ ট্যাংক, দূরপাল্লার কামান ও ইলেকট্রো-অপটিক্যাল স্যাটেলাইট প্রযুক্তি।
ভারতীয় নৌবাহিনীকে নিয়েও মন্তব্য
পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল Shifat Ali দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ভারতীয় নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে মোতায়েন থাকলেও পাকিস্তানের নৌ প্রতিরক্ষা কৌশলের কারণে তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ভারতের বিমানবাহী রণতরী INS Vikrant লক্ষ্য করে প্রস্তুত ছিল, তবে ভারতীয় বাহিনী নিরাপদ সীমার বাইরে এগোয়নি।
সবশেষে পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধ চায় না, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।





