ঈদ সামনে রেখে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিকৃত পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে চামড়া ব্যবসায়ীদের অনুকূলে দ্রুত ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, চামড়াশিল্প দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী ও দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্পখাত। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়, যা এ শিল্পের প্রধান কাঁচামালের বড় উৎস।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের চলতি মূলধন ঋণসীমা অনুমোদন ও দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, শুধু ঋণ অনুমোদন নয়, বরং মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেও ব্যাংকগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে অর্থায়ন সুবিধা পান, সে বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।
এ ছাড়া চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাদের পূর্বে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ রয়েছে, তাদের নতুন ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের বিপরীতে কম্প্রোমাইজড অর্থ আদায়ের শর্ত সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল থাকবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা সহজে নতুন ঋণ গ্রহণ করে কাঁচা চামড়া ক্রয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৬ সালের কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। এ লক্ষ্যমাত্রা ২০২৫ সালের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হতে পারবে না।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তবায়িত ঋণ বিতরণের তথ্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নির্ধারিত ফরম্যাটে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, এসব নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের চামড়া শিল্পে উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে গতি আসবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।





