মঙ্গলে ৩৯০ কোটি বছরের প্রাচীন শিলাস্তরের সন্ধান, নাসার নতুন তথ্য

ওয়াশিংটন, ১৬ জুলাই ২০২৬: লাল গ্রহ মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছে নাসার পারসিভারেন্স রোভার। জেজেরো খাদের প্রান্তে প্রায় ২৪৫ ফুট পুরু একটি বিশাল শিলাস্তরের সন্ধান পেয়েছে রোভারটি, যা মূলত বারবার গ্রহাণুর আঘাতে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাসার বিজ্ঞানীরা এই শিলাস্তরের নাম দিয়েছেন ‘ব্রুম পয়েন্ট মেম্বার’। তাদের মতে, এটি প্রায় ৩৯০ কোটি বছর পুরোনো এবং মঙ্গলে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত প্রাচীনতম ভূখণ্ডগুলোর একটি।
এই গবেষণার ফলাফল বুধবার ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি সৌরজগতের ইতিহাসের একটি সংঘাতময় সময় সম্পর্কে নতুন ধারণা প্রদান করছে।
পারসিভারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফার্লে বলেন, পৃথিবীতে টেকটোনিক প্লেটের কারণে প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক রেকর্ড অনেকটাই মুছে গেছে। তবে মঙ্গলে টেকটোনিক প্লেট না থাকায় সেই প্রাচীন তথ্য এখনও সংরক্ষিত রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের অতীত সম্পর্কে নতুন করে জানতে সহায়তা করছে।
রোভারটি ২০২৪ সালের শেষ দিকে এই অঞ্চলে গবেষণা শুরু করে। সেখানে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণে ছয় ধরনের শিলার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শিলাগুলোর মধ্যে কাচের মতো দেখতে ছোট ছোট গুটিকা রয়েছে, যা শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতের ফলে সৃষ্টি হয়। কিছু গুটিকার আকার পৃথিবীতে ডাইনোসর বিলুপ্তকারী চিকসুলুব গ্রহাণুর আঘাতে সৃষ্ট গুটিকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অ্যালেক্স জোনস জানান, বিভিন্ন সময় ও দূরত্বে সংঘটিত নানা আকারের গ্রহাণুর আঘাতের ফলে এই পুরু শিলাস্তরগুলো জমা হয়েছে। এছাড়া, এই স্তরগুলোর গঠনে পানি বা বরফের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশ ও সৌরজগতের গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীরভাবে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






