ফটিকছড়িতে পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান: কালা মোবারকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার, বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

জোবায়ের হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে ‘কালা মোবারক’ ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে ফটিকছড়ি থানার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের একটি দল ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা অস্ত্রধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার কালা মোবারক পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামি। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তলও তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে—একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, একটি ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল। এছাড়া ৯ এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড, ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি এবং প্রাথমিকভাবে এটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রটির উৎস ও কীভাবে এটি অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, কালা মোবারক বড় সাজ্জাদ বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বাহিনীর প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যতই শক্তিশালী বা দুর্ধর্ষ হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।





