তিন বছরের জন্য নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি, ৩৭৫ সিসির বাইক আমদানির সুযোগ

ঢাকা, ২৫ আগস্ট: দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে অধিকতর আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করে গড়ে তুলতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ জারি করেছে সরকার। বাণিজ্য সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং রপ্তানি ও শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এই নীতিটি ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্টস (কন্ট্রোল) অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ধারা ৩(১) অনুযায়ী এই আদেশ প্রণীত হয়েছে।
নতুন নীতির অন্যতম আকর্ষণীয় পরিবর্তন হলো সিবিইউ (সম্পূর্ণ তৈরি) অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানির অনুমতি প্রদান। উল্লেখ্য, আগের ২০২১-২০২৪ নীতিতে ১৬৫ সিসির ওপর মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল।
পাশাপাশি আমদানিকারকদের জন্য ঋণপত্রের (এলসি) শর্ত শিথিল করে নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ছাড়াই কেবল ‘ক্রয়-বিক্রি চুক্তি’র (Sales Contract) মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়ারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্প বিনিয়োগ ও আমদানিতে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তির বৈশ্বিক মান অনুসরণের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি), কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস এবং বিএসটিআই-এর মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) ও বিভিন্ন আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আমদানিতে শুল্ক সুবিধা নেওয়ার প্রক্রিয়াকেও স্পষ্ট করা হয়েছে নতুন আদেশে।
ব্যবসায়ী সংগঠন ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নতুন নীতির ফলে কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ হবে এবং বেসরকারি খাতের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।




