চার ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে ‘বিজয় এক্সপ্রেস’, স্টেশনে চরম ভোগান্তি

চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়াগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ ট্রেন নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ার খবরে যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বেলা গড়িয়ে দুপুর হওয়ার পরও ট্রেন ছাড়েনি।
চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা পারভিন আক্তার পরিবারসহ ভোরে বাসা থেকে বের হয়ে সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে স্টেশনে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে এসে জানতে পারেন, ট্রেনটি এখনো স্টেশনে আসেনি এবং ছাড়বে বেলা একটার পর। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আগে থেকে কোনো ঘোষণা না থাকায় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অযথা কষ্ট করতে হলো।”
সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভিড়। কেউ বেঞ্চে বসে আছেন, কেউ বা মালপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে। শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে অনেক পরিবারই বিপাকে পড়েছেন। ট্রেনের আগমন ও ছাড়ার সময় নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিরক্তি স্পষ্ট।
চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী এই ট্রেনটি পথে আখাউড়া, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্টেশনে থামে। কিশোরগঞ্জ যাওয়ার জন্য টিকিট কাটা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “সকাল সকাল বের হয়ে এসে শুনছি ট্রেন দেরি করবে। এখন বুঝতে পারছি না, বাসায় ফিরে যাব নাকি এখানেই অপেক্ষা করব।”
বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা রওশন আরা মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “এখন বাসায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার পরে এলে ভিড়ের কারণে ট্রেনে ওঠা কঠিন হবে। ঈদের সময় এমনিতেই যাত্রী বেশি থাকে।”
দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে অনেক যাত্রীকে স্টেশনেই বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। কেউ কেউ মেঝেতে বসে, আবার কেউ ঘুমিয়েও পড়েছেন।
এদিকে ট্রেন বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক যাত্রী মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “ঈদ এলেই বিজয় এক্সপ্রেস দেরি করে। প্রতি বছর একই সমস্যা, কিন্তু সমাধান নেই।”
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, ঈদের সময় যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় পথে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থামতে বেশি সময় লাগছে। এতে করে পুরো সূচিতে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত চার দিন ধরেই এই ট্রেন দেরিতে চলাচল করছে। গতকালও এটি প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছায়। সেই ধারাবাহিকতায় আজও বিলম্ব হচ্ছে। তবে বিজয় এক্সপ্রেস ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া অন্য ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করছে।






