‘গ্রামের মানুষ এখন তুষিকে চিনে না, চিনে ওই পাগলীকে’

সিনেমার চরিত্রের প্রয়োজনে তারকাদের নানা রূপে হাজির হতে হয়—এ কথা নতুন নয়। তবে সেই চরিত্রের আবহ বাস্তবেও ফুটিয়ে তুলে আলোচনায় এসেছেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। ‘পাগলী’ চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি সেই চরিত্রের গান নিজ কণ্ঠে গেয়ে সম্প্রতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি। নতুন এই অভিজ্ঞতা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন তুষি।
নাজিফা তুষি জানান, শুরুতে গানটি গাওয়ার ব্যাপারে তিনি বেশ দ্বিধায় ছিলেন। তার ভাষায়, ‘প্রথমে আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। ভয়েও একদম শক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ এটা ছিল এক পাগলীর গান। সেই জায়গা থেকেই গানটা গেয়েছি। এখন দেখছি, সবাই খুব পছন্দ করছে—এটা আমার জন্য দারুণ অনুভূতি।’
তিনি বলেন, সিনেমায় ‘পাগলী’ চরিত্রটি করতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় গ্রামে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তার একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। ‘গ্রামের মানুষদের মুখে নানা ধরনের গান শুনতাম। সেগুলো থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে চরিত্রের ভেতরে থেকেই গুনগুন করে গান গাইতাম। পরে যখন সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি চলছিল, তখন টিমের সবাই বলল—এই গানটা আলাদা করে পরিবেশন করা যেতে পারে,’ বলেন তুষি।
আরও জানান, শুরুতে ভয় পেলেও সহকর্মীদের উৎসাহে তিনি সাহস পান। ‘বন্ধুরা বলেছিল—ভুল হলেও সমস্যা নেই, মজা হবে। যেহেতু এটা পাগলীর গান, তাই স্বাভাবিকতার বাইরে যাওয়াই স্বাভাবিক। সেই ভাবনা থেকেই গেয়েছি,’ যোগ করেন তিনি।
গানটি প্রকাশের পর দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া তাকে আনন্দিত করেছে। তুষি বলেন, ‘দর্শকরা উপভোগ করেছে—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যদি তাদের একটু বিনোদন দিতে পেরে থাকি, সেটাই আমার জন্য অনেক।’
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো সময়টাই ছিল উপভোগ্য। বিশেষ করে গ্রামবাসীর প্রতিক্রিয়া তাকে এখনো হাসায়। ‘ওই গ্রামের মানুষরা আমাকে তুষি হিসেবে চেনে না, তারা এখনো সেই পাগলী হিসেবেই দেখে। ভিডিও কলে কথা বললে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে—তুই এত সুন্দর হয়ে গেছিস কেন!—এ ধরনের অনেক মজার ঘটনা আছে,’ বলেন তিনি।






