নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইরানে ‘ইন্টারনেট পাচার’, বিকল্প প্রযুক্তিতে সংযুক্ত থাকছেন নাগরিকরা

কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিকল্প উপায়ে অনলাইনে যুক্ত থাকার পথ খুঁজে নিচ্ছেন Iran–এর সাধারণ মানুষ ও প্রযুক্তিকর্মীরা। স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট ডিভাইস গোপনে দেশে এনে ব্যবহার করার মাধ্যমে সেখানে এক ধরনের ‘ইন্টারনেট পাচার’ কার্যক্রম গড়ে উঠেছে।
BBC–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ইরান সরকার প্রায়ই ইন্টারনেট সীমিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন দেশটির নাগরিকরা।
এই পরিস্থিতিতে কিছু গোপন নেটওয়ার্ক বিদেশ থেকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিভাইস, বিশেষ করে Starlink টার্মিনাল ইরানে প্রবেশ করাচ্ছে। ছোট আকারের বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে দেশটিতে গোপনে স্টারলিংকের সেবা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টেলিগ্রামের একটি চ্যানেলের মাধ্যমে এসব যন্ত্র বিক্রিও হচ্ছে। ওই চ্যানেলের এক স্বেচ্ছাসেবকের দাবি, গত আড়াই বছরে প্রায় পাঁচ হাজার ডিভাইস বিক্রি হয়েছে।
প্রতিবেদনে ছদ্মনাম ব্যবহার করা এক ইরানি নাগরিক ‘অরহান’ জানান, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর থেকে ইরানে দীর্ঘস্থায়ী ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট চলছে। তিনি বলেন, সীমান্তপথে একাধিক স্টারলিংক টার্মিনাল দেশে আনা হয়েছে এবং একটি টার্মিনাল ব্যবহার করে একসঙ্গে অনেকেই ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারছেন।
মানবাধিকার সংগঠন Witness–এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার স্টারলিংক ব্যবহারকারী থাকতে পারে। তবে দেশটিতে স্টারলিংক ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ব্যক্তিগত ব্যবহারে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং বড় পরিসরে বিতরণে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। গত মাসেই এ অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে স্যাটেলাইট টিভি সিগনালের মাধ্যমে তথ্য আদান–প্রদানের মতো বিকল্প প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরাসরি ইন্টারনেট ছাড়াই খবর, সফটওয়্যার ও অন্যান্য ডাটা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর সেন্সরশিপের মধ্যেও তথ্যপ্রবাহ সচল রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কৌশল দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তবে একই সঙ্গে বাড়ছে নজরদারি, গ্রেপ্তার ও আইনি ঝুঁকিও।





