দেশের টুথপেস্টের ৭৬ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত

ঢাকা, ২৭ জুলাই: দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতে, অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছে। শিশুদের জন্য বাজারজাত কিছু টুথপেস্টেও এ ধরনের কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না। বড় প্লাস্টিক ভেঙে যেমন এ ধরনের কণা তৈরি হতে পারে, তেমনি শিল্পকারখানায় ইচ্ছাকৃতভাবেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা তৈরি করে বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু টুথপেস্টে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। অতীতে দাঁত পরিষ্কার বা পালিশের অনুভূতি তৈরির জন্যও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ব্যবহারের নজির রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কিছু ক্ষেত্রে কম খরচে পণ্যের ওজন বা ঘনত্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যেও এ ধরনের উপাদান ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে নির্দিষ্টভাবে কোন ব্র্যান্ডে কী উদ্দেশ্যে এসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি উদ্বেগজনক হলেও আতঙ্কের নয়। বর্তমানে অনেক কোম্পানি মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করেছে, এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের উপাদানের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দাঁত ব্রাশের সময় এসব কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে কি না—এ বিষয়েও আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





