তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অনাগ্রহ, সমালোচনায় টুখেল

ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০২৬: বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে হারের পর এই ম্যাচ খেলার প্রতি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স—উভয় দলের খেলোয়াড়দেরই আগ্রহ নেই।
বুধবার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২–১ গোলে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ফ্রান্স ২–০ ব্যবধানে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।
ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় টুখেল বলেন, ‘আমাদের কিংবা ফ্রান্সের কোনো দলের খেলোয়াড়রাই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। তারা সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবাই বিশ্বকাপ জিততেই খেলতে নামে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ফ্রান্সের তুলনায় আমরা এক দিন কম বিশ্রাম পেয়েছি, তবু আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে ম্যাচটি খেলব।’
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন টুখেল। তাঁর মতে, সেমিফাইনালের মতো উচ্চমাত্রার লড়াইয়ের পর এমন একটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করা কঠিন, যেখানে শিরোপা জয়ের সুযোগ নেই।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সমালোচনার মুখে পড়লেও টুখেল বলেন, শেষ চারে ওঠা ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আরেকটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে আমাদের চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। সেমিফাইনালে ওঠাটাই একটি সাফল্য। অনেক শক্তিশালী দলই এর আগেই বিদায় নিয়েছে। তবে এই মুহূর্তে কেউই সেটা শুনতে চায় না—আমিও না।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে এগিয়ে থাকার পর রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাবে টুখেল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। দল সবটাই দিয়েছে এবং আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি আমাদের অন্যতম সেরা ম্যাচ ছিল।’
তিনি আরও জানান, পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর। ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবে ২০২৮ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে নজর রাখছেন তিনি।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে অনাগ্রহ থাকলেও টুখেল আশা প্রকাশ করেন, ফ্রান্সের বিপক্ষে এই ম্যাচটি দলের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানো। সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলাধুলায় এটাই করতে হয় এবং আমরাও সেটাই করব।’






