টিস্যু কালচারে বদলাচ্ছে কৃষি, দেশেই উৎপাদন হচ্ছে রোগমুক্ত উন্নত চারা

ঢাকা | জুলাই ২০২৬
টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশে উচ্চমূল্যের ফল, ফুল ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদের রোগমুক্ত চারা উৎপাদন বাড়ছে, যা বাণিজ্যিক কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রযুক্তির ফলে কৃষকেরা তুলনামূলক কম দামে উন্নত মানের চারা পাচ্ছেন এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে কাচের ছোট বোতলের ভেতরে ক্ষুদ্র উদ্ভিদ টিস্যু থেকে কয়েক মাসের মধ্যে হাজার হাজার চারা উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে দেশে কলা, আনারস, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, অর্কিড, লিলিয়াম, জারবেরা, স্টেভিয়া ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সারা বিশ্বেই বাণিজ্যিক কৃষিতে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশও সেই পথে এগোচ্ছে। আধুনিক কৃষির বিকাশ এবং রোগমুক্ত চারা তৈরি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। কারণ, অল্প জায়গায় লাখ লাখ রোগমুক্ত চারা উৎপাদনে এর বিকল্প নেই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে এখন জি-৯ জাতের কলা, এমডি-২ আনারস, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, জারবেরা, লিলিয়াম, অর্কিড, স্টেভিয়া ও পেঁপের চারা উৎপাদিত হচ্ছে। আগে এসব চারা ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হতো।
মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টার ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ দুই লাখ তিন হাজারের বেশি চারা বিক্রি করেছে। এতে সরকারের আয় হয়েছে ৫২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিস্যু কালচার প্রযুক্তির বিস্তার ঘটলে কৃষিতে বৈচিত্র্য বাড়বে এবং রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।





