চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

সায়মুন শেখ, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। থেমে থেমে বৃষ্টি। নগরের বিভিন্ন স্থানে জমে আছে পানি। আর সেই জমে থাকা পানিতেই বাড়ছে এডিস মশার বংশবিস্তারের শঙ্কা।
চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেছে ৯ জনের। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই মারা গেছেন ৩ জন। গত সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে আরও দুইজনের। মৃতদের একজন চার বছর বয়সী শিশু রুজাইনা মাজিদ। এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— ‘জটিল ডেঙ্গু সিনড্রোম ও রক্ত জমাট বাঁধার মারাত্মক সমস্যা।’ অপর মৃত ব্যক্তি ২৯ বছর বয়সী রাশেদা বেগম।
সিভিল সার্জনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ২ হাজার ৩৬ জন। এর মধ্যে শুধু আগস্টেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২০২ জন। কিন্তু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫৩ জন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যেখানে আগস্টে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ৩৯ জন।
হিসাব বলছে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনে দৈনিক আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছর ডেঙ্গু চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ২০৮ জন। বিআইটিআইডিতে চলতি বছর চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ১১ জন। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৫৬ জন। নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬ জন। এই হাসপাতালেই চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে একজনের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্ত ও চিকিৎসা নিয়েছেন ২৪৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ৭ জন। আর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন। সব মিলিয়ে, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৮৯ জন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ২৮৪ জন, আর বেসরকারি হাসপাতালে ৪০৫ জন।
এদিকে, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার মধ্যেই অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টির পানি জমে থাকা পাত্র, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেনের আশপাশ, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ও বিভিন্ন আবর্জনা—সবই হয়ে উঠতে পারে এডিস মশার প্রজননস্থল। ফলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অবশ্য নগরের বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন অভিযান ও ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
সাম্প্রতিক সময়ে ২, ৭, ১৭, ১৮, ২৬, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যেভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে, তাতে শুধু অভিযানই যথেষ্ট নয়। বৃষ্টির পানি জমে থাকা স্থান দ্রুত পরিষ্কারের পাশাপাশি নগরবাসীকেও হতে হবে আরও সতর্ক।





