খুলনায় ১৮১ সন্ত্রাসীর তালিকা, নেই গডফাদারদের নাম

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনা মহানগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের একটি নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি প্রণীত এ তালিকায় ১৮১ জন সন্ত্রাসীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নগরজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের নাম থাকলেও তাদের নিয়ন্ত্রণকারী বা পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত কথিত গডফাদারদের নাম তালিকায় স্থান পায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে খুন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজরদারি শুরু করে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন থানা, গোয়েন্দা সংস্থা ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে ১৮১ জনের এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কয়েকটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, অস্ত্রের মহড়া এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও এসব চক্রকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তবে নতুন তালিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে গডফাদারদের নাম না থাকা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় শুধু মাঠপর্যায়ের সদস্যরা নয়, তাদের পেছনে অর্থদাতা, আশ্রয়দাতা এবং প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু নতুন তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম দৃশ্যমান না হওয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, প্রকৃত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সন্ত্রাসী চক্রের একজন সদস্য গ্রেপ্তার হলে তার স্থানে নতুন সদস্য যোগ হয়। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে এসব চক্রকে পরিচালনা বা প্রভাবিত করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অপরাধের মূল উৎস বন্ধ করা সম্ভব হবে না। ফলে কেবল মাঠপর্যায়ের সন্ত্রাসীদের তালিকাভুক্ত করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ দমনে শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অপরাধী নেটওয়ার্কের আর্থিক উৎস, রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় গ্রেপ্তার অভিযানের পরও অপরাধী চক্র নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকাটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। অপরাধীদের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধি, গ্রেপ্তার অভিযান এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে ১৮১ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। এ কারণে তালিকাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু সন্ত্রাসীদের নয়, তাদের নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা ও প্রভাবশালী গডফাদারদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহলে খুলনা মহানগরীতে দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।





