ওজন কমাতে গ্রিন টি, মাচা নাকি লিকার চা—কোনটি বেশি কার্যকর?

ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন। কেউ বেছে নেন মাচা, আবার কেউ পছন্দ করেন ব্ল্যাক টি বা লিকার চা। একই চা গাছ থেকে তৈরি হলেও এই পানীয়গুলোর পুষ্টিগুণ, কার্যকারিতা এবং শরীরে কাজ করার ধরন এক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে এসব চা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনটি বেশি কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ওপর।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে থাকে এপিগ্যালোকাটেচিন গ্যালেট (ইজিসিজি) নামের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই উপাদান প্রাকৃতিক ক্যাফেইনের সঙ্গে মিলিত হয়ে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে গ্রিন টি গ্রহণ করলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তুলনামূলক হালকা স্বাদের হওয়ায় অনেকের কাছেই এটি জনপ্রিয়।
মাচা
মাচা মূলত গ্রিন টিরই একটি বিশেষ ধরনের রূপ। এটি ছায়াযুক্ত পরিবেশে উৎপাদিত চা পাতা থেকে তৈরি হয়। মাচার ক্ষেত্রে পুরো চা পাতাই গুঁড়ো করে পানির সঙ্গে গ্রহণ করা হয়, ফলে এতে থাকা পুষ্টি উপাদান সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে।
সাধারণ গ্রিন টির তুলনায় মাচায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি থাকে। এছাড়া এতে থাকা এল-থিয়েনিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড দীর্ঘ সময় সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা জিমে যান, তাদের জন্য মাচা প্রি-ওয়ার্কআউট পানীয় হিসেবেও কার্যকর হতে পারে।
ব্ল্যাক টি বা লিকার চা
ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্ল্যাক টি বা লিকার চাও উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
যারা দীর্ঘদিন ধরে দুধ ও চিনি ছাড়া কড়া চা পান করতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য ব্ল্যাক টি একটি সহজ বিকল্প হতে পারে।
কোনটি বেছে নেবেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল হলে এবং হালকা স্বাদের পানীয় পছন্দ করলে গ্রিন টি উপযোগী হতে পারে। বিপাকক্রিয়া আরও সক্রিয় করতে চাইলে এবং তুলনামূলক বেশি খরচে আপত্তি না থাকলে মাচা ভালো বিকল্প।
অন্যদিকে, যারা প্রচলিত চায়ের স্বাদ বজায় রেখে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক পানীয় খুঁজছেন, তারা ব্ল্যাক টি বা লিকার চা বেছে নিতে পারেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কোনো চা-ই একা ওজন কমানোর জাদুকরি সমাধান নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি এসব পানীয় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।





