হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে 'হুমায়ূন মেলা'

আবু তাহের
প্রতিনিধি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা সাহিত্যের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, হুমায়ূন আহমেদ, যিনি তাঁর গল্প, উপন্যাস আর নাটকের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে রেখেছেন। তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা থেকেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ আয়োজিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী এক আয়োজন ‘হুমায়ূন মেলা-১৪৩৩’।
‘অনুভবে এক আকাশ হুমায়ূন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে।নতুন কলা ভবনের সামনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই মেলা।
সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত
চলতে থাকে এই আনন্দ আয়োজন যেখানে মিলেছে সংস্কৃতি, সাহিত্য আর উৎসবের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
মেলায় হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকর্মকে কেন্দ্র করে মঞ্চস্থ হয় নাটক, পরিবেশিত হয় গান, লোকসংগীত, নৃত্য এবং হৃদয়ছোঁয়া কবিতা আবৃত্তি। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জমে ওঠে কুইজ প্রতিযোগিতা ও সাহিত্য আড্ডা।
গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া আনতে ছিলো নাগরদোলা, এবং ব্যতিক্রমধর্মী হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা যা দর্শনার্থীদের মাঝে এনে দেয় বাড়তি আনন্দ।
মেলা প্রাঙ্গণে ছিলো নানা স্বাদের খাবারের দোকান, হস্তশিল্প ও অলংকারের স্টল, এবং হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় বইয়ের সমাহার যেখানে ভিড় করেন তাঁর অসংখ্য পাঠক ও ভক্তরা।
মেলায় ছিলো হুমায়ূনপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। তাদের চোখে-মুখে ছিলো ভালোবাসা, আবেগ আর প্রিয় লেখককে নতুন করে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। অনেক ভক্তই জানান এমন আয়োজন তাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। “আমরা চাই, প্রতি বছর জাতীয়ভাবে এমন একটি ‘হুমায়ূন মেলা’ আয়োজন করা হোক”এমন দাবিও জানান উপস্থিত দর্শনার্থীরা।
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ডাঃ এজাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রহমত আলী, প্রখ্যাত অভিনেত্রী অধ্যাপক ওয়াহিদা মল্লিক জলি। তারা স্মরণ করেন হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং তুলে ধরেন তাঁর জীবন ও দর্শনের নানা দিক।
মূলত এই আয়োজনটি ছিলো নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘ইভেন্ট অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট’ কোর্সের অংশ। দীর্ঘ ৬ মাসের পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে তারা বাস্তবায়ন করে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
এই মেলা শুধু একটি আয়োজন নয় এ যেনো স্মৃতির এক উজ্জ্বল অ্যালবাম, যেখানে নতুন প্রজন্ম খুঁজে পায় হুমায়ূন আহমেদ-এর জীবন, সাহিত্য আর অনন্য দর্শনের ছোঁয়া।
হুমায়ূন আছেন, থাকবেন, তাঁর সৃষ্টির মাঝে, আমাদের ভালোবাসায়, আর এমন প্রতিটি আয়োজনের প্রাণে।





