হরমুজ প্রণালিতে মা/ই/ন ইস্যুতে ইরানকে হুঁ/শি/য়া/রি ট্রাম্পের, ধ্বং/স করা হচ্ছে ইরানের মা/ই/ন/বা/হী জাহাজ!

হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন ইস্যুতে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বাহিনীর দাবি, মাইনবাহী একের পর এক ইরানি জাহাজকে ধ্বংস করছে তারা। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তা সমগ্র বিশ্বজুড়েই জন্ম দিয়েছে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মাইন বসানো শুরু করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটা মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো বলছে, বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে মাইন বসানো হলেও ইরানের হাতে প্রচুর পরিমাণে ক্ষুদ্র যুদ্ধজাহাজ ও মাইন স্থাপনকারী নৌযান রয়েছে। তারা চাইলে খুব দ্রুত এই প্রণালীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকশো মাইন ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। বর্তমানে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর- আইআরজিসি এবং দেশটির নৌবাহিনী যৌথভাবে এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী নৌযান ছাড়াও রাসায়নিক ভর্তি নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের মাইন স্থাপন করা হলে বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হলে তার পরিণতি হবে ভয়া বহ। ট্রাম্পের হুঙ্কার অনুযায়ী, এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরানকে অতীতের তুলনায় বিশ গুণ বেশি শক্তির আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এমন সব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে যাতে ইরান রাষ্ট্র হিসেবে আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। তিনি এই প্রণালীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের অন্তত ষোলোটি মাইন স্থাপনকারী নৌযানসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। সমুদ্রপথে ইরানের আধিপত্য খর্ব করতে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুদ্ধ কে শুরু করবে তা হয়তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করতে পারে, কিন্তু যুদ্ধের সমাপ্তি কীভাবে হবে তা নির্ধারণ করবে একমাত্র তেহরান।
উল্লেখ্য, গত বারোদিন ধরে এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়া বহ হামলায় অন্তত চল্লিশ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তেহরান ও ইস্পাহানসহ বড় বড় শহরগুলোতে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনে এই ধরনের হামলায় একজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করলেও উত্তেজনার পারদ মোটেই নামছে না। এমতাবস্থায় অস্ট্রেলিয়াও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে। এই অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবমিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই সংকট এখন আর কেবল আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে।






