হরমুজ প্রণালিতে কার্গো জাহাজে হা’ম’লা, জ্ব’ল’ছে আ’গু’ন

হরমুজ প্রণালিতে কার্গো জাহাজে ভয়া বহ হামলার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহ পথে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি বিশাল মালবাহী জাহাজ এখন ধ্বংসের মুখে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্যটি সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় চলাচলের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে এমন নজিরবিহীন হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স বা ইউকেএমটিও-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাঝসমুদ্রে হঠাৎ করেই একটি অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইল কার্গো জাহাজটিতে আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো জাহাজে শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এর তীব্রতা এতটাই ভয়া বহ ছিল যে, জাহাজে থাকা নাবিকরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। প্রাণভয়ে তারা জাহাজটি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে সাহায্যের আবেদন জানান। এসময় ঐ এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর খবর পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, ইরান এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অসংখ্য ছোট ছোট সমুদ্র মাইন বসানো শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা বিশ্বের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে যদি মাইন বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, ইরান যদি কোনোভাবে এই প্রণালিতে ফাঁদ তৈরি করে বা মাইন বসায়, তবে তা কেবল একটি অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অনিরাপদ হয়ে পড়লো, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রতিবেদনে জানা গেছে, ঐ এলাকায় চলমান উত্তেজনার কারণে কার্যত সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত কয়েকদিনে বেশকিছু বেসরকারি কার্গো জাহাজ মালিক তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী বারবার সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। আমেরিকার এই রহস্যজনক নির্লিপ্ততা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরাসরি কোনো সংঘাতের দায় নিতে চাইছে না, অথবা তারা পরিস্থিতির মোড় কোন দিকে ঘোরে তা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এই নিষ্ক্রিয়তা জলের দুর্বৃত্তদেরকে আরও সাহসী করে তুলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ করতে ওয়াশিংটন পরবর্তী সময়ে আর কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা এখনো অস্পষ্ট।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এক প্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার কাজ এবং শিখা নেভানোর প্রচেষ্টা চললেও ঐ এলাকাটি এখন আক্ষরিক অর্থেই এক অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রের নীল জলরাশি এখন শিখা আর মাইনের আতঙ্কে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলো যদি এখনই দ্রুত কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক সমঝোতায় না পৌঁছাতে পারে, তবে কেবল ছয়শো পঞ্চাশ জন নাবিক কিংবা কয়েকটি জাহাজ নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়া বহ অন্ধকারের মুখে পতিত হতে পারে।
আপাতত সবার নজর হরমুজ প্রণালির দিকে। সেখানে ঠিক কী ঘটছে এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ভাগ্য।






