বাকৃবি ক্যাম্পাসে ‘সবুজ পৃথিবী’র ময়মনসিংহ বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নবী হোসেন লাদেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে ‘সবুজ পৃথিবী’র ময়মনসিংহ বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘সবুজে বাঁচি, সবুজে গড়ি—আগামীর পৃথিবী হোক সবার’—এই প্রত্যয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাকৃবি ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু এক দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে চলবে না। একটি গাছ লাগানোর পর সেটিকে বাঁচিয়ে তোলার দায়িত্বও নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে একটু বেশি বাসযোগ্য করে তোলা।” বৃক্ষরোপণের সাফল্য শুধু কতটি চারা রোপণ করা হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে না; বরং কতগুলো গাছ দীর্ঘদিন টিকে থাকল এবং পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখল, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাকৃবির ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. শহীদুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয় জরুরি। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ পরিবেশকে সবুজ করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কবি ও সমাজসেবক, লন্ডনপ্রবাসী মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন, প্রকৃতি মানুষের সম্পত্তি নয়; মানুষ প্রকৃতিরই অংশ। তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে নিজেদের জীবনকেই রক্ষা করা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও মানবিক পৃথিবী রেখে যেতে সামাজিকভাবে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।
‘সবুজ পৃথিবী’র উপদেষ্টা কবি ও সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরী বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু ছবি তোলা, চারা লাগানো কিংবা এক দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে এর মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। একটি গাছ রোপণের সঙ্গে তার পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারও যুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি চারা ছোট হলেও এর মধ্যে ভবিষ্যতের ছায়া, অক্সিজেন, পাখির আশ্রয় এবং নিরাপদ পৃথিবীর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘সবুজ পৃথিবী’র সভাপতি ডা. কায়েম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সহিদ মাহমুদ।
বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. ইসমাইল হোসেন বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে।
‘সবুজ পৃথিবী’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সহিদ মাহমুদ বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। একটি চারা থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ একসময় বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাকৃবি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক, পরিবেশপ্রেমী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
এ সময় বাকৃবির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. শারমিন আক্তার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মো. জহিরুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশ ময়মনসিংহ রিজিয়নের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।





