বস্তি থেকে বিলাসবহুল জীবন—২৬ বছরেই মুম্বাইয়ে দুই বাড়ির মালিক মহিমা মাকওয়ানা

৫ আগস্ট ২০২৬: বস্তিতে কেটেছে শৈশব, জীবনের শুরুটাই ছিল সংগ্রামে ভরা। তবে সেই সংগ্রাম পেরিয়ে আজ সাফল্যের শিখরে অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই মুম্বাই শহরে দুইটি অভিজাত বাড়ির মালিক হয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি Netflix-এর ওয়েব ফিল্ম মুসাফির ক্যাফে-তে অভিনয় করে দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন মহিমা। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প।
মাত্র পাঁচ মাস বয়সেই বাবাকে হারান মহিমা। এরপর মুম্বাইয়ের বস্তিতেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলায় অভিনয় ছিল না তার নিজের স্বপ্ন; বরং মায়ের ইচ্ছাই তাকে এই পথে নিয়ে আসে। স্কুল শেষে ক্লান্ত শরীরে বাসে চেপে অডিশনে যাওয়া ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন।
মহিমা জানান, তার মা সবসময় অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সুযোগ পাননি। অভাবের দিনগুলোতে মায়ের একটি নিজের বাড়ির স্বপ্নই তাকে অনুপ্রাণিত করে। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই এগিয়ে যান তিনি।
শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার সময়ও তাকে নানা অপমান সহ্য করতে হয়েছে। ৯ বছর বয়সে বালিকা বধূ-এর সেটে এক পরিচালকের কটূক্তি তাকে ভেঙে না দিয়ে বরং আরও দৃঢ় করে তোলে।
পরবর্তীতে ২০১২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে ধারাবাহিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান মহিমা। শোটি ব্যাপক সাফল্য পেলে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই মায়ের জন্য নিজের প্রথম বাড়ি ও গাড়ি কিনে দেন তিনি।
টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা পেলেও বড় পর্দায় জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। ‘টিভির অভিনেত্রী’ তকমা কাটিয়ে বহুবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অবশেষে ২০২১ সালে সালমান খান অভিনীত অন্তিম সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার।
মহিমা বলেন, “অন্তিম মুক্তির পর মানুষের আচরণ বদলে যায়। সবাই তখন বন্ধুত্ব করতে চায়। কিন্তু এর পেছনে ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের কঠোর পরিশ্রম।”
১৪ বছর বয়সে প্রথম বাড়ি কেনার ১১ বছর পর, গত বছর মুম্বাইয়ে নিজের দ্বিতীয় ও আরও বড় একটি বাড়ি কেনেন এই অভিনেত্রী। তেলুগু সিনেমা, ওটিটি সিরিজ শোটাইম এবং সর্বশেষ মুসাফির ক্যাফে-তে অভিনয়ের মাধ্যমে ২৬ বছর বয়সেই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় দুই দশকের পথচলা উদ্যাপন করছেন তিনি।
তবে সাফল্যের মধ্যেও বাবার অভাব আজও তাকে কষ্ট দেয়। আবেগঘন কণ্ঠে মহিমা বলেন, “বাবা থাকলে কেমন লাগে, তা আমি জানি না। বন্ধুদের যখন তাদের বাবার সঙ্গে দেখি, তখন বুকের ভেতরটা খালি লাগে। তবে জীবনের সব কষ্ট জয় করে মাকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।”





