চট্টগ্রাম বিভাগে ছয় দিনে বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত ৪৩, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮.৭ লাখ মানুষ

চট্টগ্রাম, ১৯ জুলাই: টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে গত ছয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৪৩ জন প্রান হারান। একই সময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন এবং অঞ্চলের ২৪২ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, যেখানে ২৩ জন মারা গেছেন, এর মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় ১১ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন প্রান হারান।
এ ঘটনায় মোট ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, কক্সবাজারে ২৪ জন (পাঁচজন রোহিঙ্গা), খাগড়াছড়িতে একজন এবং বান্দরবানে দুইজন রয়েছেন।
চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা, যেখানে ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্গত মানুষের জন্য বিভাগজুড়ে ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৬৭০টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ৪৭টি, খাগড়াছড়িতে ১৫০টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় ৫৪০ টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ৩০ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৭ হাজার ২৫০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে ১৮১ টন চাল, ১৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও শুকনো খাবার, রাঙামাটিতে ২৩৫ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা, খাগড়াছড়িতে ৬৭ দশমিক ৬ টন চাল, ৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবানের সাত উপজেলায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৩৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলার জন্য অতিরিক্ত ৬৮ টন চাল ও ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে টানা বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।





