সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় নওগাঁর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো

নওগাঁ: সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। স্বজন হারানোর গভীর শোকের পাশাপাশি বর্তমানে তাঁদের পরিবারগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশ পাঠানোর জন্য নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা।
গত রোববার (১০ আগস্ট) রিয়াদের মানফুয়া এলাকার একটি সোফা তৈরি কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোয়ালী গ্রামেরই চারজন রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থেকে জানা যায়, অভাব ঘোচাতে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে উচ্চ সুদে ঋণ ও বসতভিটা বন্ধক রেখে সন্তানদের সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তারা। আত্রাই উপজেলার গন্ডগোয়ালী গ্রামের ময়না বেগম তাঁর দুই সন্তান মোহন প্রামাণিক (২২) ও সুমন প্রামাণিককে (১৬) হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের টাকা সুদে-আসলে এখন আট লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
একই গ্রামের সাইদুর প্রামাণিক ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে রুবেল প্রামাণিকও এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সংসারের অভাব দূর করতে মাত্র তিন মাস আগে ধারদেনা করে তাকে সৌদি পাঠানো হয়েছিল। মাত্র ১৬ দিন আগে রুবেলের এক কন্যাসন্তান জন্ম নিলেও বাবার মুখ দেখার আগেই সে পিতৃহারা হলো।
অন্যদিকে, নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ রেজিস্ট্রিপাড়ার বাসিন্দা শাহীনুর রহমান পাঁচ মাস আগে বসতভিটার জমি বন্ধক রেখে পৌনে ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন। আগুনে পুড়ে তিনিও মারা যান। তাঁর স্ত্রী মিম বেগম জানান, ঋণের টাকা শোধ করতে না পারলে জমি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন তাঁরা।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুল আকুতির পাশাপাশি এ সমস্ত নিঃস্ব পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্বজনেরা।






