সুন্দরগঞ্জে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন কার্যক্রম দেখতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি দল

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
বন্যা আসার পর নয়, আগেই প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা দেখতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাঠ পরিদর্শন করেছে ইউনিসেফের প্রতিনিধি দল। মৌসুমী বন্যা মোকাবেলায় ২০২৪ সালের ডাব্লিউএএসএইচ সেক্টরের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন কার্যক্রমের আওতায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তারা।
বুধবার দাতা সংস্থা ইউকের প্রতিনিধিসহ ইউনিসেফের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ও হরিপুর ইউনিয়নে যায়। সেখানে কার্যক্রমের আওতায় সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা বন্যার আগাম প্রস্তুতি, সহায়তা পাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রমের বাস্তব উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান।
এর আগে প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি।
উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএইচএম খালেকুর রহমান, গাইবান্ধা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ কুমার সাহা, লালমনিরহাট জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক, ইউনিসেফের প্রতিনিধি সালেহা খাতুন, ইউকে প্রতিনিধি ডেনিয়েল ওয়েট, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাধব রায়, উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধি ডা. শাহারুল ইসলাম সাগর, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. সুমী কায়ছার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
মতবিনিময় সভায় ইউকে প্রতিনিধি ডেনিয়েল ওয়েট মৌসুমী বন্যা মোকাবেলায় ডাব্লিউএএসএইচ সেক্টরের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর আগেভাগে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোই এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য বলে সভায় আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডাব্লিউএএসএইচ সেক্টরের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন কার্যক্রমের আওতায় সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ি ও হরিপুর ইউনিয়নের ২ হাজার ৫৪৩ জন উপকারভোগীর মধ্যে কিটবক্স বিতরণ করা হয়েছিল। বন্যার আগেই এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় নিয়েও খোঁজ নেন। স্থানীয় পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতির এমন উদ্যোগ ভবিষ্যৎ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিও মূল্যায়ন করেন তারা।





