সালমান শাহর অকালপ্রয়ানের তিন দশক: মৃত্যুর আগের দিন এফডিসির সেই ঘটনা আবার আলোচনায়

বিনোদন ডেস্ক, ৭ সেপ্টেম্বর: ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর তিন দশক পূর্ণ হলেও তাঁর জীবনের শেষ সময়গুলো ঘিরে ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহ কমেনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে এই কালজয়ী অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু দেশের বিনোদন জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করে। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যুর আগের দিন, অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর এফডিসিতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা পুনরায় আলোচনায় এসেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে ‘প্রেম পিয়াসী’ চলচ্চিত্রের ডাবিং করছিলেন সালমান শাহ। সেখানে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর। ডাবিং চলাকালে সালমান শাহ তাঁর বাবাকে ফোন করে স্ত্রী সামিরা হককে এফডিসিতে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে সামিরা এফডিসিতে পৌঁছালে ডাবিং কক্ষে সালমান ও শাবনূরের মধ্যকার খোশগল্প নিয়ে সামিরা মনোক্ষুণ্ন হন এবং সেখান থেকে রাগ করে বেরিয়ে যান।
পরবর্তীতে চলচ্চিত্র পরিচালক বাদল খন্দকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন এবং রাতে সালমান শাহকে তাঁর নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় পৌঁছে দেন। তবে পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর পর সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘হত্যা’ বলে অভিযোগ তোলা হলেও, তাঁর স্ত্রী সামিরা হক বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে 'আত্মহত্যা' হিসেবে দাবি করে আসছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করা সালমান শাহ মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে ১৪টি চলচ্চিত্রে তাঁর জুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’-র মতো তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলো আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।





