বন্যা-ভাঙন-খরার ঝুঁকি মোকাবিলায় সুন্দরগঞ্জে এলএপিএ সভা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও খরার মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ের অভিযোজন পরিকল্পনা (এলএপিএ) উন্নয়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)'র ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’র আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি।
জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের ম্যানেজার মো. শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাধব রায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর আহমেদ লস্কর, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুমী কায়সার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জুরিখ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের আয়োজনে সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সুন্দরগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে দিন দিন আরও দৃশ্যমান হচ্ছে। কখনো বন্যা, কখনো নদীভাঙন, আবার কখনো জলাবদ্ধতা ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষি ও জীবিকা। ফলে দুর্যোগ আসার পর প্রতিকারের পাশাপাশি আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তারা আরও বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা না বুঝে ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না। তাই কোন এলাকায় কী ঝুঁকি, কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং কী ধরনের ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করতে হবে।
বক্তারা মনে করেন, কার্যকর এলএপিএ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, কৃষি ও অবকাঠামো রক্ষায় সুন্দরগঞ্জে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।





