নিকলী হাওর থেকে হাই-টেক পার্ক—তারেক রহমানের কাছে কিশোরগঞ্জবাসীর ৫ চাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ
কিশোরগঞ্জ সফর ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের নজরদারিতে রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মঞ্চে বসেই শুনেছেন স্থানীয়দের নানা সমস্যার কথা।
রোববার পুরাতন কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু, পাদরিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি প্রদান ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের মধ্যে সম্মানি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেক এবং একজন প্রতিবন্ধীর হাতে তুলে দেন চাকরির নিয়োগপত্র।
তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে কটিয়াদি উপজেলা তথা পুরো কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল তুমুল উত্তেজনা। অনেকেই প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে অবস্থান নেয় কটিয়াদির প্রধান সড়কগুলোর দু-পাশে। লোকে-লোকারন্য হয় মঞ্চের সামনের মাঠ এবং চারপাশ।
আশায় বুক বেধে সমাবেশে আসেন প্রাকৃতিক সুন্দর্যের অপরুপ নিদর্শন নিকলি হাওরবাসীরাও। জনগণের আশা প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন বদলে দেবে উপজেলার অবকাঠামো, পর্যটন স্পট, উন্মুক্ত হবে কটিয়াদি উপজেলা তথা পুরো জেলার কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের দ্বার।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে স্থানীয়দের এসব চাহিদা আর দাবী উল্লেখ করে মঞ্চেই লিখিত আকারে আবেদন পেশ করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দন। এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে ৫টি দাবী লেখা পত্রটি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে বসেই স্থানীয়দের দাবী-দাওয়া পড়েন। যে দৃশ্য ওই উপজেলার মানুষকে বিমোহিত করেছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে দাপ্তরিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে চিঠি হস্তান্তর করে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেন। এমন দৃশ্য কটিয়াদির সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দাবীগুলোর মধ্যে ছিল:
১. নিকলী হাওড় সংযোগ (মূল সড়ক) উন্নয়ন: কটিয়াদী হয়ে নিকলী হাওড়ে যাওয়ার প্রধান সড়কটিকে অনতিবিলম্বে প্রশস্ত ও আধুনিক পিচঢালা মহাসড়কে রূপান্তর করা হোক। এতে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং অবহেলিত এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে।
২. হাইব্রিড বীজ উৎপাদন সম্ভাবনা ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র: যেহেতু কটিয়াদীর মাটি অত্যন্ত উর্বর, তাই এখানে সরকারি উদ্যোগে বা পিপিপি (PPP) মডেলে উন্নত মানের হাইব্রিড ধান ও সবজি বীজ উৎপাদন খামার ও একটি আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হোক। এতে কৃষকেরা সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত বীজ পাবেন এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
৩. আধুনিক হিমাগার ও ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট: এলাকায় উৎপাদিত সবজি ও মৌসুমি শস্য সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগে আধুনিক হিমাগার (Cold Storage) এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য 'ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট' স্থাপন করা জরুরি। আমার দীর্ঘ ১৫ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বলে এটি স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্য বদলে দেবে।
৪. হাই-টেক পার্ক ও কারিগরি শিক্ষা ইনস্টিটিউট: উপজেলার শিক্ষিত ও প্রযুক্তিমনস্ক তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং এবং আইটি সেক্টরে দক্ষ করতে একটি আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার বা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন করা হোক।
৫. সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (TTC) ও বৈদেশিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট স্থাপন: কটিয়াদীতে বিদেশ গমনেচ্ছু যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করতে আধুনিক ড্রাইভিং, কম্পিউটার, মেকানিক্যাল ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ টিটিসি (TTC) স্থাপন করা হোক।
কটিয়াদি বাসীদের মতে এসব দাবী পুরণ হলে বদলে যাবে স্থানীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা। বদলে যাবে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ খোদ প্রধানমন্ত্রীও কোনো অনিয়ম, দুর্ণীতি বা সামাজিক সমস্যা নিয়ে আশানরুপ সোচ্চার ছিলেন। চেষ্টা করেছেন ঘটনাস্থলে থেকেই সমাধান করার। কটিয়াদির সন্তান ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দনের লিখিত আবেদন তাই আরো গুরুত্ব বহন করছে স্থানীয়দের মাঝে। বহুকালের চাওয়ার অবসান ঘটতে পারে নুরুজ্জামান চন্দনের এই আবেদনের মাধ্যমে।
সমাবেশে, বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জনগণের কল্যাণে এমন রাজনীতি করে, যে রাজনীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, শিক্ষায় সহায়তা দেয়, কৃষকের ফসল বাড়াতে ভূমিকা রাখে এবং কলকারখানা গড়ে তোলে—সেটিই বিএনপির রাজনীতি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এই উন্নয়ন যাত্রার প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেশের সাধারণ মানুষ। অর্থাৎ আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের জন্য কাজ করা, মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারলেই একমাত্র দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জালাল উদ্দীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।





