চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুসে লাখো মানুষের ঢল

সায়মুন শেখ, চট্টগ্রাম
হামদ-নাত, তাকবির আর দরুদ শরিফের সুরে মুখর চট্টগ্রামের রাজপথ। ভোর থেকেই ষোলোশহরমুখী মানুষের স্রোত। সময় গড়াতেই তা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ৫৫তম জশনে জুলুসে অংশ নিতে জড়ো হন লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ষোলোশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে শুরু হয় ৫৫তম জশনে জুলুস।
নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ হেঁটে, ট্রাক ও পিকআপে করে জুলুসে অংশ নেন। কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত, দরুদ শরিফ ও জিকিরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) চট্টগ্রামে এ জুলুসের প্রবর্তন করেন। আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার এর ৫৫তম আয়োজন।
জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।
জুলুসকে ঘিরে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসেছে ভাসমান মেলা। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করা হচ্ছে।
জুলুসের পথজুড়ে রয়েছে তোরণ, আনজুমানের পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানার। সবুজ পতাকা আর নানা সাজসজ্জায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নগরের বিভিন্ন সড়ক।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বিভিন্ন সড়কের যান চলাচল।
নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।
গত বছর জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং অন্তত ছয়জন আহত হন। সেই ঘটনার পর এবার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, জুলুসকে কেন্দ্র করে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, কুশপুত্তলিকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বড় এই সমাবেশে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।





