খুলনায় নিখোঁজের ৫ মাস পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, উঠান খুঁড়ে মিলল কঙ্কাল; দম্পতি আটক

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনায় প্রায় পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ইজিবাইক চালক মারুফ হোসেন ওমর (১৫)-এর মরদেহের সন্ধান মিলেছে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তদন্তের ভিত্তিতে হরিণটানা থানার ব্লু হোয়েল আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির উঠান খুঁড়ে তার কঙ্কাল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাড়ির মালিক মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনি খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মারুফ হোসেন ওমর, স্থানীয়ভাবে "ওমর" নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি খুলনা নগরীর পিপলস পাঁচতলা এলাকার বাসিন্দা এবং জীবিকার তাগিদে ইজিবাইক চালাতেন। গত রমজান মাসে ইজিবাইক নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ হওয়ার দিন মারুফকে শেষবার হরিণটানা এলাকার দিকে যেতে দেখা যায়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ব্লু হোয়েল আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে বাড়ির উঠান খুঁড়ে পুঁতে রাখা অবস্থায় মানবদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা পোশাক ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে সেটিকে মারুফের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মারুফকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা হয়। হত্যার পর তার ব্যবহৃত ইজিবাইকটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, একটি ইজিবাইকের লোভে একজন কিশোরের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কর্মকর্তারা জানান, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহের কঙ্কাল ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।






