একাকীত্ব দূর করতে পারে কি এআই, নাকি বাড়ায় নতুন নির্ভরতা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট, ভার্চুয়াল সঙ্গী এবং সামাজিক রোবট দিন দিন মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিচ্ছে। অনেকেই এগুলোকে বন্ধু, উপদেষ্টা কিংবা জীবনসঙ্গীর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই সাময়িকভাবে একাকীত্বের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করলেও এটি কখনোই বাস্তব মানবিক সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে না।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী এআই চ্যাটবটকে মানুষের মতোই অনুভব করেন। গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬৮ শতাংশ ব্যবহারকারী মনে করেন চ্যাটবটের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা ও সহানুভূতির বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ডিজিটাল সঙ্গী হিসেবে এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সম্পর্কের সামাজিক প্রভাবও ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। জাপানে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভোগা অনেক মানুষ ভার্চুয়াল সঙ্গীর দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল চরিত্রকে ঘিরে আবেগীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার ঘটনাও বাড়ছে।
তবে গবেষকরা বলছেন, এআই সবসময় ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারলেও এর মধ্যে মানুষের মতো প্রকৃত অনুভূতি নেই। এটি সহানুভূতির অনুকরণ করতে পারে, কিন্তু বাস্তবে কোনো আবেগ অনুভব করে না। এ ছাড়া এআইয়ের নিজস্ব নৈতিক দায়িত্ববোধ, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতাও নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক বিকাশের জন্য বাস্তব সম্পর্ক অপরিহার্য। পরিবার, বন্ধু এবং সমাজের সঙ্গে আন্তরিক যোগাযোগ মানুষের জীবনে যে সমর্থন ও নিরাপত্তা তৈরি করে, প্রযুক্তিনির্ভর কোনো ব্যবস্থা তা পুরোপুরি দিতে পারে না।
ফরাসি দার্শনিক পল রিকোর মনে করতেন, মানুষের প্রকৃত কল্যাণ ও সুখ পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই জীবনের অর্থ ও পরিপূর্ণতা গড়ে ওঠে।
এ ধারণার সঙ্গে সঙ্গতি পাওয়া যায় দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও। গবেষকরা বলছেন, সম্পদ বা খ্যাতির চেয়ে ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক মানুষের সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, একাকীত্ব মোকাবিলায় এআই সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কার্যকর হতে পারে। তবে মানবিক সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ পথ।





