আসন্ন বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ছে, নিকোটিন পাউচে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচ আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং হিটেড টোব্যাকো পণ্যে বিদ্যমান শুল্ক ৬৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাবও থাকতে পারে।
আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রায় নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বৃদ্ধিসংক্রান্ত এসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
স্তরভেদে সিগারেটের নতুন মূল্য
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব সম্ভাবনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সর্বোচ্চ সমন্বয় বিবেচনায় নিয়ে সিগারেটের ন্যূনতম খুচরামূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হতে পারে। প্রতি দশ শলাকায় নিম্নস্তরে ষাট টাকা থেকে দুই টাকা বাড়িয়ে বাষট্টি টাকা, মধ্যমস্তরে আশি টাকা থেকে বারো টাকা বাড়িয়ে বিরানব্বই টাকা, উচ্চস্তরে একশো চল্লিশ টাকা থেকে বিশ টাকা বাড়িয়ে একশো ষাট টাকা এবং অতি উচ্চস্তরে একশো পঁচাশি টাকা থেকে পঁচিশ টাকা বাড়িয়ে দুইশো দশ টাকা করার প্রস্তাব থাকতে পারে।
নতুন পণ্যে প্রথমবার শুল্ক আরোপ
এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ খুচরামূল্য ও সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব আসতে পারে। প্রতি দশ গ্রাম নিকোটিন পাউচের মূল্য পাঁচশো টাকা নির্ধারণ করে ৪০ শতাংশ এবং প্রতি দশ শলাকা হিটেড টোব্যাকোর মূল্য দুইশো দশ টাকা নির্ধারণ করে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকতে পারে।
জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন শ্রেণিকোড সৃষ্টি করে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপেরও প্রস্তাব করা হতে পারে।
অবৈধ তামাক বাণিজ্য রোধে ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস পদ্ধতি
অবৈধ তামাকপণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধে তামাকপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য 'ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস' পদ্ধতি প্রণয়নের প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগগুলো একদিকে রাজস্ব আয় বাড়াবে, অন্যদিকে তামাক সেবনে নিরুৎসাহিত করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার।





