রাশিয়ান মডেল মনিকা কবিরের গায়ে পানি মেরে তোপের মুখে মধ্যবয়স্ক দোকানী

রাশিয়ান মডেল মনিকা কবিরের গায়ে পানি মেরে তোপের মুখে মধ্যবয়স্ক দোকানী। রাজধানীর একটি ব্যস্ততম বিপণিবিতানের সামনে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওচিত্র ধারণের সময় এক দোকানীর পানি ছিটানো এবং তার ফলে মডেলের পোশাক ভিজে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মডেল মনিকা কবির তার ব্যক্তিগত ভ্লগ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য একটি ট্রাইপড ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও করছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মনিকা একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় দোকানের ভেতর থেকে এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিকে সামনের রাস্তায় পানি ছিটাতে দেখা যায়।
অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক বা সচেতনভাবে, সেই পানির একটি বড় অংশ সরাসরি মনিকা কবিরের গায়ে এবং তার দামী ভিডিও সরঞ্জামের ওপর গিয়ে পড়ে। এই আকস্মিক ঘটনায় মডেল অনেকটা হতভম্ব হয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তার সাদা রঙের পোশাকটি পানির ঝাপটায় ভিজে যাওয়ায় তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং দোকানীর সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মনিকা কবির যখন তার ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন, তখন দোকানী নিজের দোকানের সামনের ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পানি দিচ্ছিলেন। তবে মডেলের অভিযোগ ছিল, তাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দোকানী ইচ্ছা করেই তার দিকে পানি ছুড়েছেন। অন্যদিকে, দোকানীর অভিব্যক্তিতে এক ধরণের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি তার দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবেই পানি ছিটাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন এবং সেখানে ভিডিও করা নিয়ে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিপণিবিতানের অন্যান্য ক্রেতা এবং পথচারীরা সেখানে ভিড় জমান। ভিডিওতে দেখা যায়, মনিকা কবির উচ্চস্বরে দোকানীর কাছে এর কারণ জানতে চাইছেন এবং তার আচরণের প্রতিবাদ করছেন। তিনি বারবার বলছিলেন, একজন নারীর গায়ে এভাবে পানি দেওয়া অত্যন্ত অপমানজনক। দোকানী অবশ্য শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তার দাবি ছিল, তিনি রাস্তা পরিষ্কার করছিলেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে ভিডিও করাটা ভুল ছিল।
এই ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একদল মানুষ মনে করছেন, ঐ দোকানী ইচ্ছা করেই বিদেশি এই মডেলকে হেনস্তা করার জন্য পানি দিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো পথচারী বা দর্শনার্থীর প্রতি এমন আচরণ শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং এটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। অন্যদিকে, অন্য একটি অংশ মনে করছে, ব্যস্ত রাস্তার পাশে বা দোকানের সামনে এভাবে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ভিডিও করা দোকানীদের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটায়। তাদের মতে, মনিকা কবিরের উচিত ছিল ভিডিও করার আগে চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া।
ভিডিওতে দেখা যায়, তর্কের এক পর্যায়ে মনিকা কবির তার ভেজা পোশাক এবং সরঞ্জাম দেখিয়ে দোকানীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথা তুলে ধরছেন। তিনি ভিডিওর মাধ্যমে তার অনুসারীদের এই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানান। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠেছে যে, পাবলিক প্লেসে ভিডিও ধারণের সীমা কতটুকু হওয়া উচিত এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত কাজে ইউটিউবার বা ভ্লগারদের হস্তক্ষেপ কতখানি গ্রহণযোগ্য।
উল্লেখ্য, মনিকা কবির একজন রাশিয়ান বংশোদ্ভূত মডেল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে তার দীর্ঘদিনের বসবাস এবং কর্মজীবন রয়েছে। ফলে তার সাথে এমন আচরণকে অনেকে বিদেশি পর্যটকদের প্রতি অসংবেদনশীলতা হিসেবেও দেখছেন।
ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত তর্কের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে এটি আধুনিক যুগের ডিজিটাল সংস্কৃতি এবং প্রথাগত জীবনযাত্রার মধ্যকার দূরত্বকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিপণিবিতান কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ না নিলেও, ইন্টারনেটে এই ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার কোনো কমতি নেই।






