‘পলাতক’ আসামি প্রকাশ্যে, ডিসির পাশে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় হত্যা মামলার এক নামীয় আসামিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পাশে দেখা যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মিস্টার খালিদ আহমেদ, যিনি রাজীব হোসেন হত্যা মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি, তাকে প্রকাশ্যে কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর বিভাগ) সুদর্শন কুমার রায়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার খুলনা মহানগরীর উত্তর কাশিপুর কবরস্থান রোড এলাকায় মমতাজ পারভীন নামে এক বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপ-পুলিশ কমিশনার সুদর্শন কুমার রায়। এ সময় উপস্থিত জনতার ভিড়ের মধ্যে খালিদ আহমেদকে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে খালিশপুর থানার কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সংঘটিত রাজীব হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খালিদ আহমেদ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাজীব হোসেনকে অপহরণের পর হত্যা করে তার মরদেহ ভৈরব নদে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ৯ জানুয়ারি ভৈরব নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত রাজীবের পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের পলাতক বলে দাবি করলেও তাদের প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে খালিদ আহমেদ বলেন, তাকে হয়রানিমূলকভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি মামলায় জামিন নেননি। একই সঙ্গে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নৌ-পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বলেন, মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, উপ-পুলিশ কমিশনার সুদর্শন কুমার রায়ের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।





