অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের জন্য কিছুই করতে পারেনি: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তেমন সফল হতে পারেনি, যার প্রধান কারণ তাদের অভিজ্ঞতার অভাব। তিনি বলেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস একজন ভালো ও বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি হলেও তাদের পক্ষে মানুষের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তার সময়ে অর্থনীতির সূচকও নিম্নমুখী হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নিজ জেলা ভোলায় তিনদিনের সফরে গিয়ে ভোলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার আরও বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল জনপ্রতিনিধিদের হাতে থাকা উচিত। “কয়েকজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না। জনগণ যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তারাই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন বলেও জানন তিনি । এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার কিছু “উদ্ভট নিয়ম” প্রণয়ন করেছে, যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত নির্দেশে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকাদানে ঘাটতির কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। “অদক্ষ লোকের হাতে ক্ষমতা পড়লে জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে। তারা নিরপেক্ষ সরকার ছিল, চেষ্টা করেছে, কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে সফল হয়নি,”—মন্তব্য করেন স্পিকার।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি কৃতিত্ব স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছে। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। “দেশ এখন আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে,”—যোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ‘জুলাই সনদ’-এ স্বাক্ষর করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও কিছু বিষয়ে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তবে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে সেগুলো কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।
স্পিকার মনে করেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য খুব বেশি নেই। “কিছু রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও উভয় পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’-এর মূল বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে দেশে কোনো ধরনের মাফিয়া শাসন ফিরে আসবে না।
সবশেষে স্পিকার বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”





