হামলা বন্ধে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, মঙ্গলবার দোহায় বৈঠক

টানা তিন দিনের সামরিক উত্তেজনার পর পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ রাখতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে দুই দেশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হবে। আপাতত উভয় পক্ষই নতুন করে হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
এর আগে রোববার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। হামলার কিছু সময় আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করা হলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, রোববার তারা দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ–এর একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। লেবাননের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও টানা দুই দিন এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটি।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতা কার্যকর করতে হলে লেবানন-সংক্রান্ত সংঘাতেরও অবসান ঘটাতে হবে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কার্যত অচল অবস্থায় ছিল।
উল্লেখ্য, ১৪ দফার অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের পথ খোঁজা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখাও এ চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।





