সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই বড় চমক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশ

সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ঐতিহাসিক সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বারোই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকার গঠন করেছে দলটি। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ত্রিশ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটায় বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অধিবেশনটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের অন্যতম একটি মাইলফলক।
অধিবেশনের প্রস্তুতি ও যাবতীয় কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষে বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত এই সভায় নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ পথচলা এবং সংসদের প্রথম দিনের কার্যপ্রণালী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে সংসদের অভিভাবক অর্থাৎ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর গঠন প্রক্রিয়া। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সংসদকে কীভাবে কার্যকর করা যায়, সেই বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী তার দলের সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু হবে এক অনন্য আবহে। যেহেতু বর্তমান সংসদে বিদায়ী কোনো স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নেই, তাই অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসনটি শূন্য থাকবে। অধিবেশন শুরুর পর প্রথমেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হবে। এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী ও স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকেই দেশবাসী সরকারের আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অধিবেশনের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং চাঞ্চল্যকর অংশটি হতে যাচ্ছে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নাম ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন, যা পরবর্তীতে সংসদ সদস্যদের সমর্থনে চূড়ান্ত হবে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল কারা বসছেন এই গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে। তবে বিএনপি এবার বড় ধরনের চমক দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদটি ছেড়ে দেওয়ার এক অভাবনীয় প্রস্তাব দিয়েছে তারা। সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী সাধারণত সরকারি দল থেকেই এই দুটি পদ পূরণ করা হয়, তবে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে বিএনপি বিরোধী দলের জন্য এই সুযোগ তৈরি করে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে।
বৃহস্পতিবারের এই অধিবেশনে শুধু স্পিকার নির্বাচনই নয়, বরং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এক ব্যস্ততম সময় পার করবেন সংসদ সদস্যরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা একশো তেত্রিশটি অধ্যাদেশ এই অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। আইনমন্ত্রী এই বিশাল সংখ্যক অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে পাস করার জন্য সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করবেন। একইসঙ্গে সংসদীয় কার্যউপদেষ্টা কমিটি গঠিত হওয়ার পর অধিবেশন কতদিন চলবে এবং পরবর্তী আলোচ্য বিষয়গুলো কী হবে তা নির্ধারিত হবে।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের ভূমিকাও এই অধিবেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে তিনি শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এরপর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। তার এই ভাষণের ওপর পরবর্তীতে ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে এই অধিবেশনের দিকে, কারণ এখান থেকেই শুরু হবে একটি নতুন বাংলাদেশের পথচলা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসার পর তাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দিয়েই সংসদের প্রতিটি আইন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সংসদ জনবান্ধব এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।





