ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকিতে ৫৮ দেশ, উদ্বেগ জাতিসংঘের

বিশ্বের অন্তত ৫৮টি দেশ ও অঞ্চলে এখনো অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইনের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। তিনি বলেছেন, বিশেষ করে মায়ানমার, সিরিয়া, আফগানিস্তান এবং ইউক্রেন-এ মাইনের কারণে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন নিষিদ্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তি গৃহীত হওয়ার প্রায় তিন দশক পরও এসব বিস্ফোরক মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাইন কয়েক দশক পরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
তিনি সব দেশের প্রতি মাইন উৎপাদন, ব্যবহার ও হস্তান্তর বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে পুঁতে রাখা মাইন দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকার, বেসরকারি সংস্থা, মানবিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাতিসংঘ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
প্রতিবেদনে ল্যান্ডমাইন অ্যান্ড ক্লাস্টার মুনিশন মনিটর-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই ল্যান্ডমাইন ও যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে অন্তত ৯৪৫ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৩২৫ জন আহত হয়েছেন।
নথিভুক্ত হতাহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে মায়ানমারে, যেখানে ২ হাজার ২৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপর সিরিয়ায় ১ হাজার ১৫ জন এবং আফগানিস্তানে ৬২৪ জন হতাহতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ইউক্রেন, নাইজেরিয়া, মালি, ইয়েমেন এবং বুরকিনা ফাসো-তেও ২০০ জনের বেশি হতাহতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মাইন, ক্লাস্টার অস্ত্র এবং যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের পর থেকে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইনের কারণে বেসামরিক হতাহতের ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু। প্রাণহানি ও অঙ্গহানির পাশাপাশি এসব মাইন বহু এলাকাকে মানুষের জন্য অনিরাপদ করে তুলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইন আক্রান্ত এলাকায় মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে যায়, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া বিলম্বিত হয় এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি দীর্ঘ সময়ের জন্য চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বর্তমানে অটোয়া মাইন নিষিদ্ধকরণ কনভেনশন-এর সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৬২। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইন মজুদ থাকা কয়েকটি দেশ এখনো এই চুক্তিতে যোগ দেয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ড চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে।
ভলকার তুর্কের মতে, যেসব দেশ এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করেনি, তাদের দ্রুত এতে যোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যারা চুক্তি থেকে সরে গেছে, তাদের পুনরায় সদস্য হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।





