রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, কাঁচা মরিচ কেজি ৪০০ টাকা ছুঁইছুঁই

ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬—রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ডিম, শাক-সবজি ও মসলাজাতীয় পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যার ফলে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে কেজিতে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। বরবটি ও বেগুন কেজিপ্রতি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
এ ছাড়া ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, কচুমুখী ও পটোল কেজিপ্রতি ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শসার দাম ছিল ১০০ টাকা কেজি এবং মাঝারি আকারের একটি চালকুমড়া বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে কাঁচা পেঁপে পাওয়া গেছে, যা বাজারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। পাড়া-মহল্লার মুদিদোকানে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর এক ডজন ডিমের দাম রাখা হচ্ছে ১৪৫ টাকা। কিছু দোকানে খুচরা ও পাইকারি উভয়ভাবে বিক্রির ক্ষেত্রে হালিপ্রতি দাম ৪৮ টাকা রাখা হয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগে একই সময়ে ডিমের হালি ৩৮ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হতো, যা থেকে বছরে ১৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে।
মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যেখানে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, সেখানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে এর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২০ টাকা কেজি।
শাকের বাজারেও দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। লাউশাকের আঁটি ৪০ টাকা, ডাঁটা ও পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লালশাক ও মুলাশাক ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কলমিশাকের আঁটি সবচেয়ে কম দামে ১০ টাকায় পাওয়া গেছে। আলু কেজিপ্রতি ২৫ টাকা এবং কাঁচকলা হালিপ্রতি ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও কিছু দোকানে বাছাই করা পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডালের কেজি ১৫০ টাকা। চালের বাজারে মাঝারি মানের বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বস্তায় কিনলে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কম পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে মোড়কজাত আটা ও ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং খোলা ময়দার দাম ২ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে শসা ও বেগুনের দামও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।





