রক্ষণভাগের ভুল আর শুটআউট ব্যর্থতায় বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির বিদায়

ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফিরেছিল জার্মানি। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে একাধিক সুযোগও তৈরি করেছিল দলটি। তবে রক্ষণভাগের ভুল, মাঝমাঠের অকার্যকারিতা এবং আক্রমণে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে ব্যর্থতার বৃত্ত সম্পূর্ণ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানির রক্ষণভাগে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। প্রথম গোলের সময় প্যারাগুয়ের জুলিও এনসিসো সম্পূর্ণ ফাঁকা অবস্থায় হেড করে বল জালে পাঠান। ওই মুহূর্তে জার্মান ডিফেন্ডারদের অবস্থান, মার্কিং এবং মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। টানা ১০ ম্যাচে গোল হজম করার ধারাও রক্ষণভাগের দীর্ঘদিনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
মাঝমাঠেও প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রণ দেখাতে পারেনি জার্মানি। বলের দখল বেশি থাকলেও সেটিকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। রক্ষণ থেকে আক্রমণে বল নেওয়ার গতি ছিল ধীর, ফলে প্যারাগুয়ে সহজেই নিজেদের রক্ষণ গোছানোর সুযোগ পায়। আক্রমণভাগে কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্তে সেগুলো কাজে লাগানো যায়নি।
দলের একাদশ নির্বাচন নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ম্যাচের শুরুতে নতুন কৌশল ও পরিবর্তিত কাঠামো নিয়ে নামলেও তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এতে আক্রমণ ও মাঝমাঠের মধ্যে সংযোগে ঘাটতি দেখা যায়। পরে পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছুটা গতি ফেরানো গেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি জার্মানি।
অতিরিক্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত আসে ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে। জোনাথন তাহের সম্ভাব্য জয়সূচক হেড বাতিল হয়ে গেলে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়তে দেখা যায়। সেই সিদ্ধান্তের পর জার্মানি লড়াই চালিয়ে গেলেও আক্রমণে আর ধার ফিরিয়ে আনতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে প্রকাশ পায় জার্মানির আরেকটি দুর্বলতা। সাধারণত পেনাল্টিতে সাফল্যের জন্য পরিচিত দলটি এবার চাপের মুখে ভুল করেছে। গুরুত্বপূর্ণ শট মিস এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতায় জয় হাতছাড়া হয়।
সব মিলিয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির বিদায়কে ভাগ্যের পরিহাসের চেয়ে নিজেদের কৌশলগত দুর্বলতা, রক্ষণগত ভুল এবং সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার ফল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।






