মেসি-এমবাপ্পের গোল সমান হলে গোল্ডেন বুট কার? নিয়ম কী বলছে

শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ইতোমধ্যে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ফলে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও ফরাসি শিবিরে এখনো আলোচনায় আছেন দলটির অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে—ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মান ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াইয়ে।
আগামী ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স। এই ম্যাচটি এমবাপ্পের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাকে লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি ও এমবাপ্পে।
তবে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির সামনে ম্যাচ খেলার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। ফলে মেসি নিশ্চিতভাবে আরও দুটি ম্যাচ—সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল অথবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী—খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে—টুর্নামেন্ট শেষে যদি মেসি ও এমবাপ্পের গোলসংখ্যা সমান থাকে, তাহলে গোল্ডেন বুট কে পাবেন?
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু টাইব্রেকার মানদণ্ড অনুসরণ করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।
প্রথমে দেখা হবে অ্যাসিস্ট বা গোল তৈরিতে অবদান। এই ক্ষেত্রে বর্তমানে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৩টি, যেখানে মেসির আছে ২টি। তাই গোল সমান থাকলে এই পরিসংখ্যানেই এগিয়ে থাকবেন ফরাসি তারকা।
যদি অ্যাসিস্ট সংখ্যাও সমান হয়ে যায়, তাহলে বিবেচনায় আসবে খেলার সময়। যিনি কম সময় মাঠে থেকে সমান গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, তিনিই পাবেন গোল্ডেন বুট।
এরপরও সমতা বজায় থাকলে দেখা হবে ওপেন প্লে থেকে করা গোলের সংখ্যা। অর্থাৎ পেনাল্টি ছাড়া স্বাভাবিক খেলায় কার গোল বেশি—সেই হিসাবই তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
এই দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে তিনি দুটি পেনাল্টি পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে তার ৮টি গোলই এসেছে ওপেন প্লে থেকে। বিপরীতে এমবাপ্পে একটি গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে। তাই শেষ পর্যন্ত এই মানদণ্ডে বিচার হলে ট্রফি যেতে পারে মেসির দখলে।
তবে এই দুই তারকার বাইরে থেকেও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে হুমকি হয়ে আছেন আরও কয়েকজন ফুটবলার। ৬টি করে গোল নিয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। সেমিফাইনাল ও পরবর্তী ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করলে তারাও শীর্ষে উঠে আসতে পারেন।
এছাড়া ৫টি করে গোল করা ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে ও স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবালের সামনেও রয়েছে ব্যবধান কমানোর সুযোগ।
অন্যদিকে দুর্ভাগ্য আর্লিং হালান্ডের। ৭টি গোল করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তার দল নরওয়ে আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় গোল্ডেন বুটের দৌড় থেকে ছিটকে গেছেন এই তারকা ফুটবলার।






