পলাশবাড়ীতে ১৫ পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ, হামলা-ভাঙচুর ও লুটের মামলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অন্তত ১৫ পরিবারের জমি, দোকানের জায়গা ও বসতভিটা জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল হাই ও আব্দুর রউফসহ একটি মহলের বিরুদ্ধে। জমি ফেরত চাইতে গেলে মামলা-হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগও রয়েছে। এরই মধ্যে এক ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল ওয়াদুদ (৪৫) উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মো. মকবুল হোসেনের ছেলে। পেশাগত কারণে তিনি জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এসিল্যান্ড অফিসে কর্মরত রয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল হাই (৫৫) ও আব্দুর রউফ ওরফে রচু (৫৮) একই গ্রামের মৃত আজিজল হক ওরফে আদার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর এলাকায় আব্দুল ওয়াদুদের ৩৬ শতাংশ ফসলি জমি দখলে রয়েছে। একইভাবে আরও অন্তত ১৪টি পরিবারের জমি, দোকানের জায়গা ও বসতভিটা আব্দুল হাই ও তার ভাগীশরিকরা জোরপূর্বক ভোগদখল করছেন। ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াদুদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। নিজেদের জমি ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। প্রতিবাদ করলে মামলা-হামলা ও হত্যার ভয় দেখানোরও অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে গত ৩ জুলাই পলাশবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন তিনি। এরই মধ্যে গত ৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল হাইয়ের নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আব্দুল ওয়াদুদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে বাড়ির প্রধান স্টিলের গেট ভাঙচুর করা হয়। পরে ঘরের স্টিলের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়।
এ সময় আব্দুল ওয়াদুদ বাড়িতে ছিলেন না। তাকে না পেয়ে ঘরের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্টিলের আলমারির ড্রয়ারে রাখা জমি বন্ধক থেকে ফেরত পাওয়া ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় তারা।
আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘আমার ৩৬ শতাংশ ফসলি জমি দখল করে রাখা হয়েছে। আরও অন্তত ১৪ জনের জমি, দোকানের জায়গা ও বসতভিটা একইভাবে ভোগদখল করা হচ্ছে। জমি ফেরত চাইতে গেলেই মামলা ও হত্যার ভয় দেখানো হয়। আমরা কোনো সংঘাতে যেতে চাই না। আইনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। প্রশাসনের কাছে কাগজপত্র যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বসতবাড়ির পাশে একটি মুরগির খামার স্থাপন করা হয়েছে। খামার থেকে ছড়ানো মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে তিনি ও আশপাশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলেও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের জমি ফেরত ও নিরাপত্তার দাবিতে গত ১৬ আগস্ট দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ থেকে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা না হলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে। তাদের মতে, জমির মালিকানা, দখল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রশাসনিকভাবে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
তবে মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল হাই ও আব্দুর রউফসহ অন্যদের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রশান্ত চন্দ্র পরামানিক বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





