জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৩২ শতাংশ, তবে মজুরির চেয়ে বেশি থাকায় জীবনযাত্রার চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

ঢাকা, ১২ আগস্ট: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে সর্বসাধারণের জন্য মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে ৮.৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২২ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার ০.১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি থাকায় বাজারে পণ্যমূল্য কিছুটা কমলেও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি লাঘব হয়নি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে জুন মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.১৬ শতাংশ। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমেছে ০.৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে দাঁড়িয়েছে ৭.১৬ শতাংশে, যা জুন মাসে ছিল ৮.৬০ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। জুলাইয়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে ৯.২৮ শতাংশ, যা জুনে ছিল ৯.৬১ শতাংশ।
অঞ্চলভেদে উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও কিছুটা বেশি। জুলাই মাসে গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৬ শতাংশ (খাদ্য ৭.১৪% ও খাদ্যবহির্ভূত ৯.৫৩%), অন্যদিকে শহরে এই হার ছিল ৮.২৪ শতাংশ (খাদ্য ৭.২১% ও খাদ্যবহির্ভূত ৮.৯০%)। শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি ০.১২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি রয়েছে।
পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিবিএস জানায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যেসব পণ্য ও সেবা কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় হতো, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা কিনতে ১০৮ টাকা ৩২ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।
জুলাই মাসে মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য বেড়ে ৮.২২ শতাংশে দাঁড়ালেও, তা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম থাকায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতায় এখনই পূর্ণ স্বস্তি ফিরছে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।





