আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার রোমাঞ্চকর ড্রয়ে শেষ হলো ইরানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ দিনে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচে। তবে সমান্তরালে চলা আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচটিও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ইরানের জন্য। কারণ এই ম্যাচে যে কোনো একটি দলের হার ইরানের জন্য নকআউট পর্বের দরজা খুলে দিতে পারত।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলের এক রোমাঞ্চকর ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হওয়ায় আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া দু’দলই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। আর তাতে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে যায় ইরানের।
ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু সমর্থক ‘সমঝোতার ড্র’-এর অভিযোগ তুললেও তা দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক।
রাংনিক বলেন, “যে ম্যাচে স্কোরলাইন ৩-৩ এবং শেষ ৯০ সেকেন্ডে এমন নাটকীয় ঘটনা ঘটে, সেখানে আগে থেকে কিছু ঠিক করা ছিল—এমন কথা বলা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “শেষ ১৫ মিনিট যারা দেখেছেন, তারা জানেন দুই দলই জয়ের জন্য খেলেছে। ৯৩ মিনিটে বসে কেউ ঠিক করেনি যে চল আরেকটি করে গোল করি।”
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল যেন এক ফুটবল থ্রিলার। ২৮ মিনিটে মার্কো আর্নাউটোভিচের গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। প্রথমার্ধের শেষদিকে রফিক বেলঘালির গোলে সমতায় ফেরে আলজেরিয়া।
বিরতির পর ৫৫ মিনিটে মার্সেল সাবিৎজারের গোলে আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রিয়াদ মাহরেজ গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোর ছিল ২-২। এরপর শুরু হয় আসল নাটক। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মাহরেজ। তখন মনে হচ্ছিল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে উত্তর আফ্রিকার দলটি।
কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ আক্রমণে বদলি খেলোয়াড় সাসা কালাইদজিচ হেডে গোল করে অস্ট্রিয়াকে ৩-৩ সমতায় ফেরান। সেই গোলই নিশ্চিত করে অস্ট্রিয়ার নকআউট পর্বে ওঠা।
চার দশকের কোচিং জীবনে এমন নাটকীয় ম্যাচ খুব কমই দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন রাংনিক। তার ভাষায়, “৪০ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে এমন নাটকীয় ম্যাচের কথা আমার মনে পড়ে না।”
অন্যদিকে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ ম্যাচটিকে ফুটবলের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমি খুশি যে এই ম্যাচে ফুটবল জিতেছে। ৩-৩ গোলের ফলই তার প্রমাণ।”
অস্ট্রিয়া গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে এবং আলজেরিয়া সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে। আর শেষ মুহূর্তের সেই নাটকীয় সমতায় বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইরানকে।






